একটা প্রাচীন দেয়ালের আড়ালে আমি জেরুজালেমে
হেঁটে যাই যুগ যুগ ধরে কোনও
স্মৃতি ছাড়াই। যেখানে মহাপুরুরষেরা তাদের
পবিত্র স্মৃতি নিয়ে বিরাজ করেন… বেহেশতের সিঁড়ি বেঁয়ে
অন্ধকার ও হতাশা মিলিয়ে গিয়েছে, কারণ প্রেম
এবং প্রণয়ই পবিত্র এবং তারা আসছে শহরজুড়ে।
আমি নিজের চিন্তার ঢাল ধরে হেঁটে যাই… ভাবি,
সেই মানুষেরা কীভাবে বলেছিলেন সরল কিন্তু পাঁথরের মতো ভারি কথাগুলো?
এটা কী সেরকম এক পাঁথর, যাতে যুদ্ধের দামামা জেগে ওঠে?
আমি আমার ঘুমের ভেতর হাঁটি। আমি ঘুমের মধ্যে তাকিয়ে থাকি। দেখি,
পারাপার জুড়ে কোথাও কেউ নেই।
সকল গন্তব্য আমার জন্যই। আমি হাঁটি। আমি আলোকবর্তিকা হই। আমি ভেসে
বেড়াই অন্যরূপে। বহুরূপে প্রকাশিত হই। শব্দগুলো
অঙ্কুরিত হয় ঘাসের মতো, যেন নবি ঈশার বার্তাবাহকের থেকে আসা শব্দ,
‘তুমি বিশ্বাস করতে চাও না, তাই তুমি বিশ্বাস করো না।’
আমি হাঁটি অন্য কেউ হয়ে। আর আমার নিভৃতে একটা ঐশ্বরিক সাদা গোলাপের ক্ষত
এবং আমার হাত দুটো একজোড়া কবুতর হয়ে ক্রুশের ওপর ঝুলে থাকে
অনাদিকাল এই পৃথিবীর ভার বয়ে… আমি তখন হাঁটি না
আমি ভাসি, অন্য কেউ হয়ে, বহুরূপে আমার প্রকাশ ঘটে…
দেশ নেই, কাল নেই। তাহলে কে আমি?
আমি কেউ নই, আমি অনাহূত উপস্থিতিমাত্র।
কিন্তু আমি নিজেকে ভাবি, একা। নবী মুহাম্মদ যে ভাষায় কথা বলতেন
তা আমারই মাতৃভাষা…
‘তুমি আর কি বলবে?’
‘তারপর?’
একজন নারী সৈনিক চিৎকার করে বলল, আবার এসেছো? আমি না তোমাকে হত্যা করলাম?
আমি বললাম, তুমি আমাকে খুন করেছিলে… এবং আমি ভুলে গেছি, তোমার মতো, আমি মৃত্যুকে মনে রাখিনি।
